বিশ্ববাজারে আগামী বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহে উদ্বৃত্তের পূর্বাভাস দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। চাহিদা নিম্নমুখী থাকায় সরবরাহ বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা। এ কারণে শুক্রবার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি কমেছে।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্ট। গত শুক্রবার এর দাম ব্যারেলপ্রতি ৭১ ডলার ১২ সেন্টে স্থির হয়েছে, যা আগের তুলনায় ৯৭ সেন্ট বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ কম। অন্যদিকে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম কমেছে ব্যারেলে ১ ডলার ১০ সেন্ট বা ১ দশমিক ৬ শতাংশ। প্রতি ব্যারেলের মূল্য নেমেছে ৬৭ ডলার ২০ সেন্ট।
সপ্তাহ শেষে ব্রেন্টের দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। ডব্লিউটিআইয়ের দাম কমেছে ১ দশমিক ২ শতাংশ।
এদিকে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনের জন্য বাড়তি রিগ স্থাপন করা হয়েছে। এতে উত্তোলন বাড়লে দাম আরো কমে যেতে পারে।
ব্যাংক অব আমেরিকার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উদ্বৃত্ত বাড়তে পারে। এ কারণে ২০২৫ সালে ব্রেন্টের দাম হতে পারে ব্যারেলপ্রতি গড়ে ৬৫ ডলার। আগামী বছর জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়তে পারে দৈনিক গড়ে ১০ লাখ ব্যারেল।
পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেক ও রাশিয়াসহ অন্যান্য সহযোগী দেশ নিয়ে গঠিত ওপেক প্লাস। সংস্থাটি বিশ্বব্যাপী অর্ধেকেরও বেশি জ্বালানি তেল উত্তোলন করে চলতি বছরের অক্টোবর থেকে উত্তোলন কমানোর পরিকল্পনা তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সংস্থাটি। তবে বৈশ্বিক চাহিদার মন্দা ও অন্যান্য দেশে উত্তোলন বৃদ্ধি পাওয়ায় তা আবার পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।
ওপেক প্লাস সদস্যভুক্ত দেশগুলো দৈনিক গড়ে ৫৮ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন বন্ধ রেখেছে, যা বৈশ্বিক চাহিদার প্রায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। গত বৃহস্পতিবার ওপেক প্লাস ঘোষণা দিয়েছে, দুই ধাপে সদস্য আট দেশের উত্তোলন কমানোর পরিকল্পনার মেয়াদ আগামী বছরের শেষের পরিবর্তে ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।